দিল্লিতে বাড়ছে H1N1! জেনে নিন কি কি সতর্ক করলো সরকার

দিল্লি তে ফের সোয়াইন ফ্লু -এর সংক্রমণ। হু হু করে বাড়ছে সংক্রমক্তদের সংখ্যা। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে দিল্লিতে মোট ফ্লু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩,০০০, যার মধ্যে ২,৩০৮ জনেরও বেশি মানুষ H1N1 (সোয়াইন ফ্লু) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে দিল্লি সরকার স্বাস্থ্য-পরামর্শ জারি করেছে। এবং হাসপাতালগুলিকে নজরদারি ও প্রস্তুতি আরো বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ সাধারণত বাড়ে; এবার আবহাওয়ার পরিবর্তন, আর্দ্রতা এবং ভিড়ের জায়গায় মাস্ক না পরার প্রবণতা সংক্রমণ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। কিছু হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও H1N1-এ আক্রান্ত হয়েছেন, যা সংক্রমণের বিস্তারকে আরও জটিল করছে।দিল্লি সরকারের স্বাস্থ্য-পরামর্শে বলা হয়েছে, জনসাধারণকে শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, ভিড় এড়াতে হবে এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কাশি বা ছিঁক দেওয়ার সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখতে হবে, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, ভিড়ের জায়গায় মাস্ক পরতে হবে এবং শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা বা শরীরে ব্যথা দেখা দিলে স্ব-চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও একই সুরে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে বলা হয়েছে, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, সর্দি, শরীরে ব্যথা ও ক্লান্তি—এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

vivekananda computer 1

বয়স্ক, গর্ভবতী, হাঁপানি বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত এবং শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি বলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে, বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবার H1N1 সংক্রমণ কিছুটা তীব্র আকারে দেখা যাচ্ছে, তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কি করবেন এই সময়ে সাধারণ মানুষ ? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে বলা হয়েছে, শ্বাসযন্ত্রের উপসর্গ দেখা দিলে বাড়িতেই বিশ্রাম নিন, পর্যাপ্ত তরল পান করুন, জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহার করুন এবং উপসর্গ স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ভিড়ের জায়গায় মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং কাশি-ছিঁকের সময় শিষ্টাচার বজায় রাখা সংক্রমণ রোধে সহায়ক। দিল্লি সরকার সব সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা, অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এবং পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রাজ্যগুলিকে নজরদারি জোরদার, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে।দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঙ্কজ কুমার সিং জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজধানীর হাসপাতালগুলিতে বেড, চিকিৎসক, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি নেই। রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এদিকে ICMR-এর তরফেও জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে H1N1 ভাইরাস ছড়াচ্ছে তা নতুন কোনও বিপজ্জনক স্ট্রেন নয়; এটি মূলত seasonal influenza-রই অংশ। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা মেনে চলার উপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে। বর্ষার পরবর্তী সময়ে ভারতে ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই ভিড় এড়ানো, মাস্ক ব্যবহার, হাত পরিষ্কার রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির পরিস্থিতিতে সরকারের নজরদারি বাড়লেও সাধারণ মানুষের সচেতনতা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Share this news article