বন্ধ হরমুজ! কেন জলপথ খুলছে না? বড় বার্তা ইরানে

ওমানের সঙ্গে সাময়িক নৌ-করিডোর চুক্তি হলেও ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে —হরমুজ প্রণালী এখনও বন্ধ থাকবে। পুরোপুরি খুলতে হলে ওয়াশিংটনকে ২০২৬-র এমওইউ-র অঙ্গীকার পালন করতে হবে বলে দাবি তেহরানের। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, ওমানের সঙ্গে যে “অস্থায়ী যৌথ নেভিগেশন করিডোর” ও মাইন অপসারণের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে তা হরমুজ খুলে যাওয়ার মানে নয়;হরমুজ প্রণালীটি এখনও বন্ধ। তার ভাষ্যে, প্রস্তাবিত কাঠামোয় দক্ষিণের করিডোর (ওমানের উপকূলঘেঁষা, ইউএন-অনুমোদিত রুট) বন্ধ থাকবে; শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে ,সামরিক জাহাজের জন্য কোনো অনুমতি নেই। ইরান আরও জানিয়েছে, ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী রুট ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে নতুন আলোচনা হবে,এর আগে পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা হবে না। ইরানের সুরক্ষা-বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই আগেই বলেছিলেন, হরমুজ বন্ধই থাকবে যতক্ষণ না মার্কিন আচরণ বদলায় এবং প্রতিশ্রুতি পালন করে।

ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একটি “ফেজড ফ্রেমওয়ার্ক” বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কাঠামোর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে অস্থায়ী যৌথ নৌ-করিডোর চালু করা হবে এবং মাইন অপসারণের একটি যৌথ প্রকল্প নেওয়া হবে। এই প্রাথমিক ধাপের পরে স্থায়ী করিডোর ও ট্রাফিক-ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা চলবে। ইরানি পক্ষের ব্যাখ্যায়, এই অস্থায়ী নৌ-পথটি ৭ নটিক্যাল মাইল চওড়া হবে এবং প্রবেশ-প্রস্থান রুটের কিছু অংশ ইরানি জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে; অন্যদিকে, ওমানের উপকূলঘেঁষা দক্ষিণের রুটটি বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ, এই ব্যবস্থা পুরোপুরি খোলার পরিবর্তে সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত চলাচলের একটি মধ্যবর্তী সমাধান হিসেবে কাজ করবে।

 

joyeeta das ad 2

ইরানের অবস্থান হলো, হরমুজের পূর্ণ খোলার শর্ত কেবল রুট-চুক্তি নয়; ওয়াশিংটনকে মার্কিন-ইরান সংকটের প্রেক্ষিতে করা এমওইউ-র অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যদিকে, মার্কিন পক্ষের দাবি (ট্রাম্পের বক্তব্য) যে মাইন পরিষ্কার হয়েছে ও ট্যাঙ্কার ট্রাফিক স্বাভাবিক—এর সাথে ইরানের “বন্ধ” দাবির সরাসরি দ্বন্দ্ব রয়েছে; ফলে বাস্তব অবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি চলছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল-বহন রুট; এখানে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ থাকা বা সীমিত চলাচল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান-ওমানের এই অস্থায়ী করিডোর চুক্তি কিছুটা স্বস্তি দিলেও পূর্ণ খোলার শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি এখনও ভিন্ন।

 

Share this news article