কাঠমান্ডু,নেপাল বন্যা আডেপট: ২১ ভারতীয় উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকে জোরদার উদ্ধার অভিযান

আজ খবর (বাংলা) কাঠমান্ডু,নেপাল নিউজ ২৭/০৮/২০২৬ : নেপাল তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পর আজ ২৭ শে অগাস্ট আবার উদ্ধারকার্য শুরু হয়েছে। উদ্ধারকার্য আরো জোরদার করেছে নেপাল সরকার। রাসুয়ার তিমুরে অঞ্চল থেকে ২১ জন ভারতীয় কে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। ৭ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপাল সেনা। এখনো অবধি নেপালে ৮২৬ জন ও তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ যার মধ্যে নেপালে ১৬২ জন ও তিব্বতে ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যের জোর আরো বাড়ানো হয়েছে বলে জানাচ্ছে নেপাল সরকার। নেপাল সেনাবাহিনীর ২০০০ জওয়ান ও সামরিক হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। ৭ জন শ্রমিককে রাসুয়ার হাকু জলবিদ্যুৎপ্রকল্পের টানেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রে জানা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপাল এর প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলে সব ধরণের মানবিক সাহায্যের কথা বলেছেন এবং উদ্ধারকার্যের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

joyeeta das ad 4

ভারতের তরফ থেকে ইতিমিধ্যেই ভারতের বিমানে করে ১০ মেট্রিক টন ত্রাণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং নেপালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রেখে কাজ করা হচ্ছে। এর সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ও যেকোনো ভাবে সাহায্য করার কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়েছেন এবপং তিনি নেপালের প্রধামন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ কেও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে যে ভূমিকম্পের কথা বলা হয়েছিল, সেই ধারণা খারিজ করেছে আমেরিকান জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS)।

Ad Grafity 1

সংস্থাটির পরবর্তী বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে, ওই এলাকায় কোনও ভূমিকম্প হয়নি। প্রথমে যে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পন শনাক্ত হয়েছিল বলে জানানো হয়েছিল, পরে সেটি আসলে একটি বিশাল হিমবাহ ধস, বরফ-পাথরের ধস এবং তার ফলে তৈরি হওয়া ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের (debris flow) কম্পন বলে নিশ্চিত করা হয়।USGS জানিয়েছে, ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে যে শক্তিশালী ভূকম্পনসদৃশ সংকেত ধরা পড়েছিল, তা মূলত হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার ফল। পরবর্তী বিশ্লেষণে এই ঘটনাটিকে প্রায় ৫.২ মাত্রার সমতুল্য সিসমিক ইভেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মাটির নিচে টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে কোনও ভূমিকম্প হয়নি; বরং পাহাড়ের উপরিভাগে বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ভেঙে পড়ার সময় যে শক্তি তৈরি হয়েছিল, সেটিই সিসমিক যন্ত্রে ধরা পড়ে।

Dr. B Monal Ad 4

উপগ্রহচিত্রের প্রাথমিক বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, প্রায় ৫,২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে নিচে নেমে আসে । সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি ধসে পড়ে লেন্দে খোলার নদীপথে। ধসের ফলে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে বিপুল পরিমাণ জল ও ধ্বংসাবশেষ জমা হয়। পরে সেই প্রাকৃতিক বাধ ভেঙে গেলে হঠাৎ প্রবল বেগে জল, কাদা, পাথর ও বরফ নীচের দিকে ছুটে আসে।এই আকস্মিক জল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত প্রথমে তিব্বতের গিরং সীমান্ত এলাকা এবং পরে নেপালের রাসুয়া জেলার দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

Screenshot 2026 08 27 140127

এরপর ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে সেই প্রবল স্রোত আরও নীচের দিকে নেমে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বহু বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু, যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো কাদা ও জলের নিচে চলে যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের স্থিতিশীলতা, বরফ গলার হার এবং পাহাড়ের ঢালের পরিবর্তন ভবিষ্যতে আকস্মিক ধস ও বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এই নির্দিষ্ট হিমবাহটি ঠিক কী কারণে ভেঙে পড়েছিল, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক তদন্ত চলছে। তাই এই পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে সরাসরি এই নির্দিষ্ট ধসের একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। নেপাল সরকার রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং এবং চিতওয়ান জেলার নদীতীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে পাহাড়ি বা উঁচু নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় পৃথ্বী হাইওয়েসহ নদী সংলগ্ন সড়কে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে নদীর পাড়ে না যেতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। যেহেতু কোশী নদীর জলপ্রবাহ ভারতের নদী ব্যবস্থার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত, তাই অতিরিক্ত জল নামার সম্ভাবনায় বিহার ও উত্তরপ্রদেশের নিচু এলাকাগুলিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরো খবর পেতে যুক্ত থাকুন : squarefootonline.com/ 

নেপালে আটকে থাকা ভারতীয়দের জন্য জরুরি হেল্পলাইন

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের পর বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। নেপালে থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারা পরিবারগুলির জন্য বিভিন্ন রাজ্য ও ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে।

 কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস
📞 +977 9851316807
📞 +977 9709107500

পশ্চিমবঙ্গ
📞 033-24793311
📞 9147890181

উত্তরপ্রদেশ
📞 1070

মহারাষ্ট্র
📞 1070
📞 +91-9321587143

কেরালা – নোরকা গ্লোবাল কন্টাক্ট সেন্টার
📞 18004253939
📞 +91-8802012345

কেরালা CMO
📞 9447111844
📞 9747132147

সিকিম
📞 03592-201145
📞 03592-202461
📞 03592-202256

ওড়িশা
📞 +91-7428135044
📞 +91-8527580245
📞 011-23012807

উত্তরাখণ্ড
📞 1070
📞 0135-2710334
📞 0135-2710335
📞 0135-2664314
📞 0135-2664315
📞 0135-2664316
📞 8218867005

ছত্তিশগড়
📞 1070
📞 +91-771-2223471

 

Share this news article