রাখিবন্ধনে রাজ্যজুড়ে কর্মসূচি । ঐক্য সম্প্রীতির বার্তা রাজ্য সরকারের

আগামী ২৮ শে অগাস্ট রাখিবন্ধন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।রাখি বন্ধন হল ভাই-বোনের সম্পর্কের গুরুত্বকে সম্মান জানায় এমন একটি উৎসব। এটি শ্রাবণ পূর্ণিমায়, অর্থাৎ শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয়। এই দিনে বোনেরা ভাইদের হাতে রাখি বেঁধে দেয়, যা তাদের মধ্যকার সম্পর্কের প্রতীক। বোন ভাইয়ের নিরাপত্তা ও সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং ভাই তাকে সর্বদা রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।সনাতন ধর্মের ইতিহাসে এই সুন্দর প্রথার প্রমাণ পাওয়া যায়।

Screenshot 2026 08 27 114857

মহাভারতের একটি বিখ্যাত উদাহরণ হল—ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আঙুল কেটে গেলে দ্রৌপদী তাঁর শাড়ি থেকে এক টুকরো ছিঁড়ে তা ব্যান্ডেজ করেছিলেন। দ্রৌপদীর এই কাজে গভীরভাবে স্পর্শিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যখন কৌরবরা দ্রৌপদীকে বস্ত্রহরণ করার চেষ্টা করেছিল, তখন দ্রৌপদী শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এবং শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সাহায্যে এসেছিলেন—দ্রৌপদীর শাড়ি অসীম উপাদানে পরিণত করেছিলেন।রাখি বন্ধন কেবল ভাই-বোনের উৎসব নয়, বাংলার ইতিহাসে এটি সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সংহতির বার্তা দিতে রাখি বিনিময়ের প্রচলন করেছিলেন।সেই সময় হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষেরা একে অপরের হাতে রাখি বেঁধে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীকী বার্তা দিয়েছিলেন।
রবীন্দ্রনাথের এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাখি বন্ধন কেবল পারিবারিক উৎসব নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের একটি বড় প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক আবহকে সামনে রেখেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার রাজ্যজুড়ে রাখিবন্ধনকে সামাজিক সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতি, ব্লক, মহকুমা, জেলা সদর এবং পুরসভার ওয়ার্ড স্তরেও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় স্তরের জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, যুব সংগঠন, মহিলা সমিতি এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

 

ad

অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীত, রবীন্দ্রনৃত্য, বাউল ও লোকসংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। এবারের সরকারি কর্মসূচিতে ‘তেরঙা রাখি’-কেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাখির মাধ্যমে শুধু ভাই-বোনের সম্পর্ক নয়, বৃহত্তর সামাজিক বন্ধন, দেশপ্রেম ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং কলকাতা পুরসভাকে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে অনুষ্ঠান আয়োজন এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর ছবি-সহ রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানোর নির্দেশও রয়েছে।

Ad Grafity 2

Share this news article