আজ খবর (বাংলা) নেপাল 28/08/2026: হড়পা বানের পর নেপালের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত বুধবার হিমবাহ ধ্বসের পর আজ পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও কঠিন থাকলেও এর মাঝেই চলছে উদ্ধারকার্য। নেপাল পুলিশ এর তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ এ দাড়িয়েছে। এবং তিব্বত অংশে আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নেপাল ও তিব্বতের মিলিয়ে মোট ১৪০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন । নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকশো ভারতীয় তীর্থযাত্রী ও বিদেশী ট্রেকার রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা ও ধ্বংসাবশেষ তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখছেন। কোথাও জমে থাকা কাদা সরানো হচ্ছে, আবার কোথাও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য জায়গাগুলিতে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। বন্যার জলের স্রোতে বহু জায়গার পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধানে প্রতিটি এলাকা সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে নেপালি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার উদ্ধারকারী দল একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতর আটকে থাকা প্রায় ১০০ জন শ্রমিককে উদ্ধারের জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালাতে হচ্ছে। ক্রমাগত বৃষ্টি, ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা এবং নদীর জলের স্তর দ্রুত বাড়ার কারণে অনেক এলাকায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার উড়ানো বারবার বাতিল হচ্ছে, যা উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।এর মধ্যেও নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নেপালের সেনা, পুলিশ ও স্থানীয় জরুরি সেবার হাজার হাজার কর্মী কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতি, হেলিকপ্টার ও স্নিফার ডগ ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকারীরা আশা করছেন, কিছু মানুষ ধ্বংসাবশেষের নিচে বা দুর্গম এলাকায় বেঁচে থাকতে পারেন।

ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি। বন্যার জলে ভেসে যাওয়া ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকাগুলিতে নিখোঁজদের সন্ধানে একের পর এক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসাবশেষের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, কিংবা স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাওয়া কোনও এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান মিলতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্ধারকাজ আরও কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই সফলভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে, তাই আপতত কোনো বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহায়তার প্রয়োজন নেই। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস (IFRC) আজ দুর্গতদের তাৎক্ষণিক জীবন রক্ষাকারী সহায়তার জন্য ৩১ মিলিয়ন ডলারের একটি জরুরি আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তের উভয় পাশে ধ্বংসাবশেষের কারণে সৃষ্ট দুটি কৃত্রিম হ্রদ বা ব্যারিয়ার লেক যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। চীন সরকার আজ সকাল থেকেই তিব্বত অংশে এই বাঁধের জলের চাপ কমিয়ে ঝুঁকি কমানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে। এদিকে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকারীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পরিস্থিতির মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকারীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।



