আজ খবর (বাংলা) দিল্লী 28/08/2026: পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা ISI-র সমর্থনে পরিচালিত একটি গুপ্তচরবৃত্তি নেটওয়ার্কের হদিস পাওয়ার দাবি করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। ভারতীয় সিম কার্ড পাকিস্তানে পাঠানো, সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ এবং সেনানিবাস এলাকায় নজরদারির অভিযোগে দিল্লি থেকে এক তরুণ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম মোহাম্মদ সাহিল (২৫) এবং তাঁর স্ত্রী সামিরা (২১)। পুলিশের দাবি, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাহিল ও সামিরা মোট ৮টি সক্রিয় ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে দুবাইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিলেন।

এর বিনিময়ে তারা পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে পুলিশ তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই সিম কার্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানভিত্তিক গোয়েন্দা অপারেটিভরা ভারতের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলত এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করত। পুলিশের অভিযোগ, এই যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক কার্যক্রম সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হত। শুধু সিম কার্ড সরবরাহ নয়, সাহিলকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেনানিবাস এলাকায় নজরদারি চালানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তি এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য লোক নিয়োগের কাজেও তাঁকে ব্যবহার করা হত বলে অভিযোগ।

তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, সাহিল ট্রাইব্যুনালের সামনে কোর্ট-মার্শালের মুখোমুখি হওয়া সেনা সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য সরবরাহ করতেন। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

কীভাবে নেটওয়ার্কের হদিস?
স্পেশাল সেলের তদন্ত শুরু হয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের কথিত ওভারগ্রাউন্ড ‘ওয়ার্কার’ ও ‘স্লিপার সেল’-কে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর। তদন্তের সূত্র ধরে দিল্লিতে স্থানীয় কয়েকজনের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হয়। তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করা হয়, যারা পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলারদের জন্য ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ এবং ভারতের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করত বলে অভিযোগ। এরপর দিল্লির সরাই কালে খানের চাঁদ বিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে প্রথমে সাহিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ফরেন্সিক পরীক্ষায় ওই ফোনে পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে তাঁর চ্যাট ও কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই যোগাযোগের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা নেটওয়ার্কের আরও গভীরে পৌঁছন এবং সাহিলের স্ত্রী সামিরার ভূমিকার বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালে Instagram-এর মাধ্যমে সাহিলের সঙ্গে এক পাকিস্তানি এজেন্টের যোগাযোগ হয়। পরে ওই এজেন্টের মাধ্যমেই দম্পতির সঙ্গে পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা কর্মীর যোগাযোগ তৈরি হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, আর্থিক সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের নেটওয়ার্কের হয়ে কাজ করতে রাজি করানো হয়েছিল। দম্পতির ব্যক্তিগত তথ্য ২০০১ সালে জন্ম নেওয়া সাহিল বিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, তিনি এক আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করতেন এবং ভবিষ্যতে এলএলবি পড়ার পরিকল্পনা ছিল। ২০২৫ সালের জুনে তিনি সেই চাকরি ছেড়ে দেন এবং এরপর থেকে বেকার ছিলেন বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, ২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া সামিরা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে তিনি বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। গ্রেপ্তারের আগে তিনি নয়ডার একটি কল সেন্টারে কাজ করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, বিয়ের আগে ২০২২ সালে সাহিল ও সামিরার পরিচয় হয়েছিল। পুলিশের অভিযোগ, সাহিলের সঙ্গে পাকিস্তানি এজেন্টের যোগাযোগের বিষয়টি সামিরাও জানতেন এবং সেই যোগাযোগ সহজতর করতে ভূমিকা রেখেছিলেন। পরে দুজনেই নেটওয়ার্কটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন বলে তদন্তকারীদের দাবি। উদ্ধার মোবাইল, দিল্লি থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত যোগসূত্র পুলিশ জানিয়েছে, দম্পতির কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ডিভাইসগুলিতে পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মীদের সঙ্গে কথোপকথন এবং ভারতে নেটওয়ার্কটির যোগাযোগ ও কার্যকলাপ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ।

তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলায় দিল্লি থেকে করাচি ও ইসলামাবাদ পর্যন্ত যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলাররা ওই দম্পতিকে অর্থ পাঠাত বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্পেশাল সেলের মতে, সাহিল ও সামিরার গ্রেপ্তার পাকিস্তানভিত্তিক কথিত গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং ভারতে তাদের স্থানীয় যোগাযোগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এই নেটওয়ার্কে আরও কারা জড়িত, ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ ও সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদানে আর কারা ভূমিকা নিয়েছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশের অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।
আরো খবর জানতে আমাদের ওয়েবসাইট https://squarefootonline.com
ও ফেইসবুক এর সাথে যুক্ত হন https://www.facebook.com/share/1Avi2MwdYW/




