কাঠমান্ডু-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বান

ওইআজ খবর ( বাংলা)নেপাল তিব্বত ২৬/০৮/২০২৬: ভয়াবহ হড়পা বানে কার্যত বিপর্যস্ত নেপাল-তিব্বত সীমান্ত। বুধবার সকালে নেপালের রসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদীতে আচমকা জলস্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে প্লাবিত হয়ে যায় সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। একইসঙ্গে চিনের তিব্বত অংশের গিরং (Gyirong) বন্দর এলাকাতেও ভয়াবহ বন্যা ও কাদাধ্বসের প্রভাব পড়ে। ভয়াবহ বন্যার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রবল স্রোতে কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে ভেসে যাচ্ছে গাড়ি, বাড়িঘর ও বিভিন্ন পরিকাঠামো। চিনের দিকের গিরং সীমান্ত বন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকাতেও মুহূর্তের মধ্যে জল ও কাদার স্রোত ঢুকে পড়ে।

ad anasuya

যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন , বিদ্যুৎ এবং সীমান্তের রাস্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে; বিভিন্ন সূত্রে।পর্যটন বোর্ডের তথ্যে ৩৮৪ জন যার মধ্যে ২৯১ বিদেশি নিখোঁজ ; নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ ভারতীয় নাগরিকের নাম রয়েছে। সীমান্তঘাঁটিতে থাকা কিছু কাস্টমস/ইমিগ্রেশন কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীও নিখোঁজ রাসুয়ায় ৯ পুলিশকর্মী নিখোঁতের খবর মিলেছে। এই ঘটনায় কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া বহু তীর্থযাত্রীও বিপদে পড়েছেন।

Mind Junction 2

ইশা ফাউন্ডেশনের সদগুরুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের একটি দলের ৭৭ জন তীর্থযাত্রী গিরংয়ের ইমিগ্রেশন সেন্টারে ছিলেন যখন হড়পা বান আছড়ে পড়ে। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকায় ৩৮৪ জন পর্যটক ও যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে শতাধিক ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।

vivekananda computer 2

তবে বিপদ এখনো কাটেনি বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। লেন্দে খোলা নদীর উজানে এখনো একটি বাধা আটকে থাকায় দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপালের সীমান্তবর্তী ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশেও বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কারণ হিমালয় থেকে নেমে আসা বেশ কয়েকটি নদী নেপাল হয়ে ভারতের সমতল অঞ্চলে প্রবাহিত হয়েছে। নেপাল সেনা, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ফোর্স উদ্ধারে নামানো হয়েছে; হেলিকপ্টার দিয়ে বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গিরং (কেরং) সীমান্তে “সর্বাত্মক” উদ্ধার-ত্রাণের নির্দেশ দিয়েছেন; শতশত উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল সরকার বন্যাকবলিত এলাকাকে তিন মাসের জন্য দুর্যোগ-কবলিত ঘোষণা করেছে; নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তিব্বতের দিকে ভূমিধস/বরফ-পাথর ধস নদীতে আছড়ে পড়ায় আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়; কিছু সূত্রে ভূমিকম্পের প্রভাবের ইঙ্গিতও আছে।

 

Share this news article