কংক্রিট সেতুর জন্যে ১৫ টি গ্রামের দীর্ঘ ২০ বছর প্রতীক্ষা

কংক্রিট সেতুর জন্যে ১৫ টি গ্রামের দীর্ঘ ২০ বছর প্রতীক্ষা

 
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], পাণ্ডুয়া, হুগলী,১৯/০৮/২০২৬ : একটি কংক্রিট সেতুর জন্য ২০ বছরের অপেক্ষা ১৫টি গ্রামের দৈনিক জীবনযাত্রা বেহাল।
পান্ডুয়ার হরাল দাসপুর  গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত  শিয়ালাগুড়ী গ্রাম সহ প্রায় ১৫ টি গ্রাম  ( কুলবারুই , মোবারক পাড়া, বিলসড়া,বারুল, পীরেতলী, বাঁশদো, কাঁটাপুর, হরাল হাটতলা ) যাতায়াত করার জন্য কেবলমাত্র একটি কাঠের ব্রিজ রয়েছে। ভোট আসে ভোট যায় বারংবার সরকার পরিবর্তন হয় শুধু প্রতিশ্রুতি থেকে যায়। বছরের পর বছর ঘুরে গেলও কংক্রিট সেতু তৈরি আর হয় না।আগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেয়া হয় পরে সেটি ভেঙে গেলে কাঠের ব্রিজ তৈরি করে দেওয়া হয়।
আধুনিকতার যুগেও থমকে গিয়েছে ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের জীবন। যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বলতে রয়েছে তিনবার জোড়াতালি দেওয়া একটি নড়বড়ে কাঠের সেতু। বিগত ২০ বছর আগে এখানে একটি কংক্রিট ব্রিজ থাকলেও, তা ভেঙে যাওয়ার পর আজও নতুন কোনো পাকা সেতু তৈরি হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
পরিস্থিতি এতটাই করুণ যে, গ্রামে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে বা কোনো জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হলে অ্যাম্বুলেন্স গ্রামের ভেতরে ঢুকতে পারে না।  অ্যাম্বুলেন্সকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় কাঠের ব্রিজের এপারে। ওপার থেকে গ্রামবাসীরা কোনোক্রমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, অসুস্থ ব্যক্তিকে কোলে করে বা টোটো  মাধ্যমে সেই নড়বড়ে কাঠের ব্রিজ পার করিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলেন। যেখানে ব্রিজের ওপর দিয়ে যাতায়াত জন্য ৩০০ মিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। সেখানেই ভিন্ন সড়ক পথ রয়েছে যা যাতায়াতের জন্য দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটারের অধিক ঘুর পথঅতিক্রম করতে হয়।এতে অনেকটাই বেশি সময় লাগে যাতায়াতের জন্য।
Ad Grafity 2
এখানেই শেষ নয়, ভাঙা কংক্রিট সেতুর অবশিষ্টাংশ এখনও নদীর বুকেই পড়ে রয়েছে। সেই ভেঙে পড়া অংশের কারণে নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে কুন্তী নদীর নদী বক্ষে জল জমে রয়েছে সাথে পানা ও আবর্জনাও।ভাঙা ব্রিজের ধ্বংসাবশেষের কারণে এলাকার জলনিকাশি ব্যবস্থা একেবারে বেহাল হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি হলেই নদীর জল উপচে চারপাশের চাষের জমিগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।
বর্তমানে ভাঙা সেতুর পাশ দিয়ে যাতায়াতের জন্য যে কাঠের অস্থায়ী সেতুটি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটিও এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় পরিণত হয়েছে। সামান্য ভার পড়লেই সেতুটি টলমল করে ওঠে। যেকোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়ে বড়সড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
২০ বছর ধরে প্রশাসনের এই উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ ১৫টি গ্রামের মানুষ। দ্রুত একটি স্থায়ী কংক্রিট সেতু নির্মাণের  আবেদন করেছেন গ্রামবাসীরা নতুন সরকারের কাছে ।
বিগত দিনের সরকারের কাছে একাধিকবার গ্রামবাসীরা আবেদন করলেও তার কোন সমাধান মেলেনি । প্রশাসনের শীর্ষ মহল কবে এই প্রান্তিক মানুষগুলোর দিকে নজর দেবে, এখন সেটাই দেখার।
vivekananda computer 3
Share this news article