বদলের বাজেট, নাকি শুধুই প্রতিশ্রুতি ? তাকিয়ে বাংলা

বদলের বাজেট, নাকি শুধুই প্রতিশ্রুতি ? তাকিয়ে বাংলা

আজ খবর (বাংলা), [দেশ], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২১/০৬/২০২৬ :   আগামীকাল প্রথমবার বাজেটে যাওয়ার আগেই রাজ্য জুড়ে শিল্প সম্ভাবনা এবং কর্ম সংস্থানের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিজেপি সরকার। দীর্ঘদিন পর আশায় বুক বেঁধেছে বাঙালি, তাকিয়ে আছে আগামীকালের দিকে।

আগামীকালএই প্রথমবার  বিধানসভায় রাজ্যের বাজেট পেশ করতে চলেছে বিজেপি সরকার।  বিগত বছরগুলিতে কি হারে মানুষ কাজ হারিয়ে অন্য প্রদেশে গিয়ে চাকরি নিতে বাধ্য হয়েছে, তা সবাই দেখেছে। গেরুয়া শিবিরের আশ্বাসে ভরসা রেখেই পালা বদল হয়েছে এই রাজ্যে।  বিজেপির এই বাজেট ঘোষণার মাধ্যমেই বোঝা যাবে কর্ম সংস্থান মিটিয়ে ফেলতে সরকার কোন পথে চলবে। এই ব্যাপারে সরকারের স্ট্র্যাটেজি ঠিক কি ?

গত কয়েক দশকে রাজ্যে সেভাবে শিল্প আসে নি, কর্ম সংস্থান তৈরিই হয় নি। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে কত সংখ্যক মানুষ ঘর ছেড়ে পরিযায়ী শ্রমিকের তকমা গায়ে মেখে সুদূরে পাড়ি  দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই মানুষগুলো বিজেপিকে ভোট দিয়েছে, এই মানুষগুলো তাই তাকিয়ে আছে আগামীকালের বাজেটের দিকে।  এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা মেটাতে  মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ গোটা ক্যাবিনেট যেন কোমর বেঁধে নেমেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টি এখন বাংলার দিকে।  সমগ্র দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক হেড কোয়ার্টার হিসেবে তিনি কলকাতাকে দেখতে চান।  এই কারণেই একের পর এক নতুন নতুন প্রকল্প তিনি নিয়ে আসছেন। আর এই কারণেই সম্ভবত তিনি যোগ দিবস পালন করলেন কলকাতায়। গোটা বিশ্বের নজর ছিল আজ কলকাতার দিকে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি শহরকেও সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। শিলিগুড়ি শহরের ওপর দিয়েই যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে চলে গিয়েছে এশিয়ান হাইওয়েজ। আবার সিকিমের ভিতর দিয়ে রেলপথের সূচনাও করছেন তিনি।

আজ নরেন্দ্র মোদী যে তিনটি যুদ্ধজাহাজ এর সূচনা করলেন শ্যামাপ্রসাদ বন্দর থেকে এই ধরনের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধ জাহাজ ক্রমাগত তৈরী করা হবে কলকাতা বন্দর থেকেই।  এই ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজের আন্তর্জাতিক চাহিদা খুবই বেশি হতে পারে। এই ধরনের জাহাজ কলকাতা বন্দরে তৈরী হলে নিশ্চিতভাবে এখানে কর্ম সংস্থান বেড়ে যাবে। বাড়বে জাহাজ প্রস্তুতির অনুসারী শিল্পগুলির সংখ্যাও।

সিঙ্গুর থেকে টাটাদের বিদায়ে রাজ্য যেন শিল্প শূন্য হতে বসেছিল।  বিজেপি নেতাদের কথাবার্তায় যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে টাটা গোষ্ঠী হয়তো ফের বিনিয়োগ নিয়ে আসবে এই রাজ্যে। এছাড়াও আসতে পারে রিলায়েন্স গোষ্ঠী।  জিন্দাল গোষ্ঠীও কাজ শুরু করতে পারে।  তারা ইতিমধ্যেই ৬০০ একর জায়গায় কারখানা বানাচ্ছে। এছাড়াও রশ্মি গ্রূপ পশ্চিমবঙ্গে কাজ শুরু করতে চলেছে। উৎসাহ দেখাচ্ছে অন্য শিল্প গোষ্ঠীগুলিও।  সব মিলিয়ে শিল্প পতি  থেকে কারখানার শ্রমিক সবাই তাকিয়ে আছেন আগামীকাল বিজেপি সরকারের বাজেটের দিকে।

cscad news

Share this news article