আজ খবর (বাংলা)[পশ্চিমবঙ্গ ] পূর্ব বর্ধমান , ২৫/০৮/২০২৬: টানা তিন দিন পূর্ব বর্ধমানের হাসপাতালে আচমকা স্বাস্থ্যমন্ত্রী, একাধিক নির্দেশ
পূর্ব বর্ধমানের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল-হকিকত খতিয়ে দেখতে টানা তিন দিন ধরে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আচমকা পরিদর্শনে গেলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর এই ‘সারপ্রাইজ় ভিজিট’-এ হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা থেকে শুরু করে পরিকাঠামো, ওষুধের মজুত, পরিচ্ছন্নতা এবং কর্মীদের উপস্থিতি—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হয়।
বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাতের দিকে আচমকা পৌঁছে জরুরি ও ইনডোর বিভাগ ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। ওষুধ ও ভ্যাকসিনের মজুত, মেয়াদ এবং বিভিন্ন রেজিস্টারও পরীক্ষা করেন তিনি। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গেও কথা বলেন। পরিষেবা ও নার্সিং ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর পরের পরিদর্শনে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়া ১০০ শয্যার একটি ইউনিটের বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে ওই ইউনিট দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
টানা পরিদর্শনের পর প্রশাসনিক বৈঠকেও জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মী-ঘাটতি, পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অব্যবহৃত পরিকাঠামো দ্রুত কাজে লাগানোর বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক আচমকা পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য, সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীরা বাস্তবে কতটা পরিষেবা পাচ্ছেন, তা সরাসরি খতিয়ে দেখা এবং ত্রুটি থাকলে দ্রুত তা সংশোধন করা। মন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট—সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় গাফিলতি বা অব্যবস্থা বরদাস্ত করা হবে না।




